বই মেলা অনুচ্ছেদ – ৩০০ শব্দ

4.3/5 - (3 votes)

একুশে বই মেলা অনুচ্ছেদ রচনা টি ৩০০ শব্দ দিয়ে তৈরি। অনুচ্ছেদ টি class 3, 4, 5, 7, 8, 9, 10, SSC, HSC সবার কাজে আসবে এবং ফুল মার্কস এনে দেবে।

অনুচ্ছেদ: অমর একুশে বইমেলা

ধর্মীয় বা সামাজিক বিষয় ছাড়া যেসব মেলা বসে বইমেলা তাদের মধ্যে অন্যতম। মেলা বলতে বোঝায় কোন একটি বিশেষ উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই জায়গায় একই সময়ে বহু মানুষের সমাগমকে। সামাজিক সভ্যতার আদি থেকেই মেলা মানুষের চিরাচরিত সমাজ জীবনের এক বিশেষ অঙ্গ। আগেকার দিনে মেলা বিশেষ করে গ্রামে গঞ্জে আয়োজিত হলেও বর্তমানে এটি শুধুমাত্র গ্রামীণ মেলাতে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক যুগে মেলার ব্যাপ্তি স্বাভাবিক চিরাচরিত গন্ডি পেরিয়ে বহু ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজাত মাত্রা লাভ করেছে। 

বইমেলায় ছোটো বড়ো সবরকম প্রকাশকরাই অংশগ্রহণ করে। স্টলগুলিকে নানাভাবে সাজানো হয়। সবাই চেষ্টা করে তাদের স্টলগুলিকে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করে তুলতে। স্টলে নানা ধরনের বই সাজানো থাকে।

আরও পড়ুন  মেট্রোরেল রচনা ১০ পয়েন্ট - Pdf

গ্রন্থমেলার ঐতিহ্য অবশ্য খুবই প্রাচীন। যতদূর জানা যায়, শুরু ত্রয়োদশ শতকে, পঞ্চদশ শতকের শেষার্ধে ইংলণ্ডে এবং সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুটে, উনিশ শতকের শুরুতে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে পুস্তক মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। শুরুতে অন্যান্য বিচারযোগ্য পণ্যের একটি অংশ হিসাবে পুস্তক প্রদর্শিত হলেও ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র পুস্তক প্রদর্শনী ও মেলা গড়ে ওঠে। 

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তারিখ থেকে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে। তবে দিন দিন দর্শক সমাগম ও স্টল সংখ্যা বাড়ার কারণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আর সব স্টলের জায়গা হয় না। মেলার স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে মেলার স্থান বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে এরপর থেকে প্রতিবছর বাংলা একাডেমির সামনের দিকে সাহোরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশ জুড়েও অমর একুশে গ্রন্থমেলার স্টল বসে।

আরও পড়ুন  ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা ১৫ পয়েন্ট

বইমেলার কারণে ক্রেতারা লেখক ও প্রকাশকের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের সুযোগ পায় । মেলা প্রাঙ্গণে লেখক ও প্রকাশকদের উপস্থিতি ক্রেতাদের আরও উৎসাহিত করে। ফলে অজস্র বইয়ের সমাবেশ থেকে ক্রেতারা। নিজেদের পছন্দমতো বই কিনতে পারে।

বইমেলা মানুষের চিন্তার পরিমাপক। এর মাধ্যমে মানুষের রুচি ও আদর্শের উন্নতি ঘটে। এমেলা বাঙালি জীবনে আনন্দ ও অসীম প্রেরণার উৎস। কেননা বই মানুষকে দেয় জ্ঞান, জ্ঞান মানুষকে করে মহীয়ান। আর এসব মহিয়ান মানুষই জাতিকে করে উন্নত। বইমেলা মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করে দৃষ্টিভঙ্গি উদার করে জ্ঞানের শক্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই বই মেলা বর্তমান সভ্যতার জাতীয় উন্নতিতে কাজ করে। তাই শিক্ষা সংস্কৃতির প্রসারে বইমেলার অবদান কে আমাদের স্বাগত জানাতে হবে।

অমর একুশে বইমেলা অনুচ্ছেদ রচনা টি ভালো লেগে থাকলে এবং আপনার উপকারে আসলে কমেন্ট এ ধন্যবাদ লিখতে এবং রচনা টি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Join the Conversation

3 Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/akkzubkd/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/akkzubkd/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481