ব্লগিং কি? Blogging meaning in bengali
এক কথায় ব্লগিং হচ্ছে বিভিন্ন টপিকের উপর লেখালেখি করা এবং এর মাধ্যমে কোনো প্রডাক্ট বা সার্ভিস কে প্রমোট করে টাকা উপার্জন করা।এটি এমন একটা পেশা যার মাধ্যমে আপনারা আপনারা লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারেন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ও।
Table of Contents
কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব? এটা কি আসলেই হয়?
এমন হাজারো প্রশ্ন আপনাদের মাথায় আসে এবং ঘুরতে থাকে। বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে মানুষ ঘরে বসেই লাখ লাখ টাকা করছে বিভিন্ন উপায়ে। হয়ত একটু খুঁজলে আপনার আশে পাশেই এমন কাউকে পেয়ে যেতে পারেন আপনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কিভাবে কাজ করে ও কিভাবে ব্লগিং করে টাকা আসে। সেই সব কিছুই বলব আপনাদের, তবে পুরো আর্টিকেল টা না পড়লে আপনারা কিছুই বুঝবেন না। তাই পুরো আর্টিকেল টা মন দিয়ে পড়বেন।
ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়?
আসলে এই কথাটার কোনো সঠিক উত্তর নেই। এমন অনেক ব্লগার আছে যারা এক টাকাও ইনকাম করতে পারছে না, আবার এমনও অনেক ব্লগার আছে যাদের মাসিক ইনকাম ১০ লাখ টাকারও বেশি। তাই আপনাকে জানতে হবে ও শিখতে হবে যে কিভাবে আপনি আরোও বেশি বেশি আয় করতে পারবেন।
ইউটিউব এ সার্চ করলেও দেখবেন অনেক টপ ব্লগার রা তাদের ইনকাম শেয়ার করেছেন, তাদের দেখে ইন্সপিরেশন নিতে পারেন।
ব্লগিং শুরু করতে কত টাকা প্রয়োজন ?
ব্লগিং এর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে একটি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে তাতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলা। একটি ডোমেইন কিনতে আপনার খরচ হতে পারে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মত, কিছু কিছু ডোমেইন আপনি ২০০ টাকার মধ্যেও পেয়ে যেতে পারেন। আর একটি মোটামোটি ভালো মানের হোস্টিং কিনতে আপনার খরচ হতে পারে আরও ১০০০ টাকার মত। এসব ডোমেইন বা হোস্টিং আপনাকে প্রতি বছর রিনিউ করতে হবে, মানে আপনি একবার কিনে নিলে আর এক বছরের আগে আপনার কোনো খরচ নেই।
তবে আপনি যদি একদমই নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আমি বলব আগেই এত খরচ করার দরকার নেই, আপনি কোনো খরচ ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন, বিস্তারিত আমি পরে বলছি আপনাকে। এবার আসুন জেনে নিই,
কি কি উপায়ে ব্লগিং থেকে আয় করা যায়?
ব্লগিং থেকে আয় করার অসংখ্য উপায় আছে। আপনি যত মেধা খাটাবেন তত আপনার ইনকাম বাড়বে এই সেক্টর এ। আমি আপনাদের কিছু খুব জনপ্রিয় উপায় বলে দিচ্ছি যার মাধ্যমে আপনারা ব্লগিং থেকে ভালো ইনকাম জেনারেট করতে।
গুগল এডসেন্স
ব্লগিং থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে গুগল এডসেন্স। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটরদের এড দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। কিছু শর্ত ও নিয়মাবলী মেনে এডসেন্স এর রিকোয়েস্ট পাঠালেই এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন।
গুগল এডসেন্স থেকে যা আয় হয় তা অন্যান্য মাধ্যমগুলো থেকে কিছুটা কম। তবে অনেকেই এডসেন্স থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং
এই কমিশন একেকটা প্রডাক্টের জন্য একেক রকম হয়। কিছু কিছু এফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে যা মাত্র একটি সেল এর জন্য আপনাকে ৫০০০ টাকা ও কমিশন দিয়ে থাকে। এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এই লিংক এ ক্লিক করুন।
স্পন্সরড পোস্ট
স্পন্সরড পোস্ট হচ্ছে আপনি কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার ওয়েবসাইটে অন্য কারো জন্য আর্টিকেল পোস্ট করবেন। আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো পরিমানের ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন কোম্পানিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যদি তারা রাজী হয় তাহলে কিছু টাকার বিনিময়ে আপনি তাদের জন্য একটি স্পন্সরড পোস্ট করতে পারেন।
স্পন্সরড এড
আপনারা অনেকে নিউজ ওয়েবসাইট গুলো ভিজিট করলে দেখতে পারবেন যে সেখানে অসংখ্য এড দেখায়। কিছু কিছু এড দেখা যায় গুগল এডসেন্স থেকে, আবার কিছু কিছু দেশিও কোম্পানির ব্যানার এড ও দেখা যায়, এই এড গুলোর জন্য কোম্পানিরা ওই নিউজ ওয়েবসাইটকে টাকা দেয়। এটাই হচ্ছে স্পন্সরড এড।
প্রডাক্ট/ সার্ভিস সেলিং
কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট বানাবেন?
এবার আপনাদের জানাবো যে কিভাবে আপনারা ফ্রিতেই খুব সহজে একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারেন। ফ্রি তে ওয়েবসাইট বানানোর অসংখ্য উপায় আছে। তবে সবচেয়ে বেস্ট হবে যদি Blogger.com দিয়ে শুরু করেন।
Blogger হচ্ছে গুগলের একটা প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে ফ্রিতে ওয়েবসাইট বানানো যায় কোনো ডোমেইন হোস্টিং ছাড়াই। আপনাকে Blogger থেকেই একটি ফ্রি সাবডোমেইন দেয়া হবে যেটা দিয়ে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বানিয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করতে পারবেন।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে আপনি এই আর্টিকেল টি পড়ছেন এই ওয়েবসাইট টিও Blogger এই বানানো। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে ব্লগারে বানানো ওয়েবসাইটও কতটা সুন্দর আর এডভান্স হতে পারে। তাছাড়া আপনার যেরকম ডিজাইন পছন্দ সেরকম ডিজাইন ই আপনি করতে পারবেন আপনার ব্লগার ওয়েবসাইটে। শুধু আপনাকে শিখতে হবে সময় দিয়ে।
ইউটিউব এ প্রচুর ভিডিও টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন Blogger এর, আমি নিজেও আপনাদের জন্য টিউটোরিয়াল বানিয়ে রেখেছি যেখানে আপনারা A টু Z সব পেয়ে যাবেন। চাইলে নিচের লিংক থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
ব্লগিং কিভাবে শুরু করব?
বন্ধুরা, ব্লগিং করার জন্য প্রথমেই আপনাদের দরকার হবে একটি ওয়েবসাইট। আপনাদের অনেকের মনে হয়ত এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে ওয়েবসাইট বানাতে তো অনেক টাকা লাগে। আসলে এক টাকাও লাগে না, আপনি ফ্রিতেই শুরু করতে পারেন।
ওয়েবসাইট বানানোর পর সেখানে আপনাকে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট দিতে হবে নিয়মিত। আপনি যেকোনো বিষয়ের উপর লিখতে পারেন, তবে যেই বিষয়ের উপর আপনি পারদর্শী সেই বিষয়েই শুরু করা ভালো।
আপনি চাইলে বাংলায় ও শুরু করতে পারেন, অথবা ইংলিশ এও শুরু করতে পারেন। তবে ইংলিশ এ শুরু করলেই ভালো কারন এতে লাভও বেশি হয় আর সফলতাও জলদি আসে।
ব্লগিং কোথায় শিখবেন বা কিভাবে শিখবেন?
আমি নিজেও একজন ব্লগার এবং এফিলিয়েট মার্কেটার। আমি আপনাদের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি যেখানে ব্লগিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর খুঁটিনাটি শেখানো হয় ফ্রিতে।
আপনারা চাইলে আমার চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন এবং আমার ভিডিও গুলো দেখতে পারেন।
তবে ব্লগিং এর নির্দিষ্ট কোনো কোর্স নেই কোথাও, আপনাকে পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং টাই শিখতে হবে ব্লগিং শেখার জন্য এবং প্রপার উপায়ে আয় করার জন্য।
তাই ভালো কোথাও থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করে নিন, অনেক কাজে আসবে। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্রতারক চক্র বের হয়েছে যারা কোর্স শেখানোর নামে আপনার থেকে টাকা নিবে কিন্তু দিন শেষে আপনি কিছুই পাবেন না তাদের থেকে।
আমি সাজেস্ট করব ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাইলে খালিদ ফারহান ভাইয়ের অনলাইন একাডেমী তে জয়েন করতে, অথবা বহুব্রীহি.কম এর ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স টা করে নিতে। এখানে আপনারা কোয়ালিটি লার্নিং পাবেন যা আপনাদের ক্যারিয়ার এ হেল্প করবে।